নিউ জিল্যান্ডের ‘করোনাভাইরাস জয়ে’ ভূমিকা রেখেছে যে বিষয়গুলো

0
373

নতুন করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেওয়ার পর প্রথম দেশ হিসেবে এই ভাইরাস জয়ের ঘোষণা দেওয়া নিউ জিল্যান্ডের সাফল্যের পেছনে তাদের সময়োচিত পদক্ষেপগুলোর কথা বলা হচ্ছে।

বিবিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫০ লাখ মানুষের দেশ নিউ জিল্যান্ডে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১২৪ জন। এই ভাইরাস সংক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন।

বেশ কিছু দিন ধরে নিউ জিল্যান্ডে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা এক অঙ্কে রয়েছে, রোববার শনাক্ত হয় মাত্র একজন। আর তা থেকেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ’ডুর্ন কার্যকরভাবে ভাইরাস নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছেন।

নিউ জিল্যান্ডের এই সাফল্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার শুরুর দিকেই গত ১৯ মার্চ নিউ জিল্যান্ড ভ্রমণ ও মানুষের কর্মকাণ্ডের ওপর যেসব বিধি-নিষেধ আরোপ করে, সেগুলো ছিল বিশ্বে সবচেয়ে কঠোরতম পদক্ষেপের অন্যতম।

সীমান্তগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশফেরত সবার জন্য ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যবাধতামূলক ঘোষণা করেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

তার এই পদক্ষেপই বিদেশ থেকে করোনাভাইরাস আমদানি বন্ধে তাদের সাহায্য করেছে। দেশটির মোট আক্রান্তের ৩৩ শতাংশই বিদেশফেরত।

ওই সময় প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ’ডুর্ন বলেছিলেন, “আমাদের মাত্র ১০২ জন করোনাভাইরাস রোগী আছে, কিন্তু ইতালিরও এক সময় তা-ই ছিল।”

বিদেশ থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে আসা ঠেকাতে নিউ জিল্যান্ড সরকারের ওই সিদ্ধান্ত কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে তা বোঝাতে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সঞ্জয়া সেনানায়েকে বিবিসিকে বলেন, “আপনি যদি প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার দিকে তাকান, আক্রান্তদের দুই-তৃতীয়াংশই বিদেশ থেকে এসেছে।

“সুতরাং সীমান্তগুলো বন্ধ করে দেওয়া সত্যিকারে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং তারা তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেছে।”

দ্রুত ও পুরোদমে লকডাউনও নিউ জিল্যান্ডের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।

২১ মার্চ নিউ জিল্যান্ড সরকার চার মাত্রার সতর্কতা ব্যবস্থার ধারণা সামনে নিয়ে আসে। এর সর্বোচ্চটা হল দেশজুড়ে লকডাউন, আর সর্বনিম্নটায় বোঝাবে রোগ নিয়ন্ত্রণে আছে তবে সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে চলে যায় নিউ জিল্যান্ড, যাতে বোঝায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ঝুঁকি বাড়ছে। কয়েক দিনের মধ্যে চতুর্থ মাত্রার সতর্কতায় যায় দেশটি, অর্থাৎ দেশজুড়ে লকডাউন।

অফিস-আদালত, স্কুল এবং সমুদ্র সৈকত ও খেলার মাঠ সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়। সব ধরনের বার ও রেস্তোরাঁও বন্ধ করা হয়। 

কন্টাক্ট ট্রেসিং ও পরীক্ষার দিক দিয়ে নিউ জিল্যান্ড এই লড়াইয়ে এগিয়ে গেছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here