আড়ংয়ে একজন ক্রেতার জন্য বরাদ্দ এক ঘণ্টা

0
468

ঈদ সামনে রেখে কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে খুলছে দেশের অন্যতম প্রধান ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ংয়ের ১৪টি আউটলেট, যেখানে আগে থেকে নিবন্ধনকারী ক্রেতারা কেনাকাটায় সময় পাবেন এক ঘণ্টা করে।

এর আগে শুক্রবার ২১টির মধ্যে ১৭টি আউটলেট খোলার কথা আড়ংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হলেও খোলা হবে ১৪টি।

ঈদ সামনে রেখে সরকার শপিং মল, বিপনী বিতান নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা রাখার অনমুতি দেওয়ার শুক্রবার আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার আশরাফুল আলম ভিন্ন আঙ্গিকে আড়ং খোলার কথা জানান।

অনলাইনে নিবন্ধন করে তবেই ক্রেতাদের আউটলেটে ঢুকতে হবে বলে জানান তিনি।।

শনিবার বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানটির এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ভিন্ন আঙ্গিকে আউটলেট খোলার বিস্তারিত তুলে ধরেন ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ ও অন্য কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রোববার থেকে আড়ংয়ের মোট ২১টি আউটলেটের মধ্যে ১৪টি খুলছে। বন্ধ থাকছে ঢাকার বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক ও বাসাবো এবং নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও সিলেট আউটলেট।

তামারা আবেদ বলেন, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এসব আউটলেট খোলা থাকবে।

“প্রতিটি আউটলেটের কর্মীর সংখ্যা ও আয়তন অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ক্রেতার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রবেশের জন্য ক্রেতারা অনলাইনে টাইম স্লট বুকিং দিতে পারবেন, যা সীমিত থাকবে। একটি টাইম স্লটে এক ঘণ্টার জন্য কেনাকাটা করতে পারবেন তারা।”

আড়ং জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইটে টাইম স্লট বুকিং সফল হলে ক্রেতা একটি এসএমএস পাবেন। আউটলেটে প্রবেশের আগে এই এসএমএসটি নিরাপত্তাকর্মীকে দেখাতে হবে।

কেনাকাটায় বেঁধে দেওয়া নিয়ম প্রসঙ্গ তিনি বলেন, কোভিড ১৯-এর সংক্রমণ রোধ করার পদক্ষেপ হিসেবে আড়ংয়ের কোনো পণ্য ট্রায়াল করার সুযোগ থাকছে না এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেনা পণ্য পরিবর্তনও করা যাবে না।

“পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার পর পণ্য পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন ক্রেতারা। তখন ৩০ দিন গণনা শুরু হবে এবং ওই সময়ের মধ্যে পণ্য পরিবর্তন করা যাবে,” বলেন তামারা।

এছাড়াও আউটলেটগুলোর ব্যাগেজ কাউন্টার বন্ধ থাকবে এবং ক্রেতাদের তাদের ব্যাগ নিয়ে আউটলেটে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।

নিরাপদ কেনাকাটার স্বার্থে আড়ংয়ের আউটলেটগুলো প্রতি ঘণ্টায় জীবাণুমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, “আড়ংয়ের কর্মীদের ৩০ শতাংশ এই সময়ে কাজ করবেন এবং তাদেরকে নিজস্ব গাড়িতে আনা-নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

আউটলেটে সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য সব সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ অনুসরণ করা হবে।”

ক্রেতা-দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনায় বিস্তারিতও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ।

খুলছে আড়ং, ঢুকতে হবে অনলাইনে নিবন্ধন করে  

এগুলো হল-

>> ক্রেতা যে টাইম স্লট বুকিং দেবেন, তার অন্তত ১০ মিনিট আগে আউটলেটের সামনে উপস্থিত হবেন

>> নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেনাকাটা শেষ করে ফিরে যেতে হবে

>> সব ক্রেতাকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করে থাকতে হবে

>> ১০ বছরের কম বয়সী শিশু নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না

>> আউটলেটে প্রবেশের আগে তাদের জীবাণুনাশক দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে এবং থার্মাল স্ক্যানারে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হবে।

>> মুখে মাস্ক না থাকলে কিংবা শরীরের তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যাবে না।

৬৫ হাজার হস্ত ও কারুশিল্পীর জীবিকার ব্যবস্থা করাকে আড়ং খোলার কারণ হিসেবে দেখিয়ে তামারা আবেদ বলেন, “তাদের কথা মাথায় রেখেই আমরা সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আড়ং আউটলেট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

“আড়ং কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নয়। আড়ংয়ের মুনাফা ব্র্যাকের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়। আমাদের যে মুনাফা হয় তার অর্ধেক আমরা আড়ংয়ের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে ব্যয় করি। আর বাকি অর্ধেক ব্র্যাকের উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় হয়। দেশে দারিদ্র্য বিমোচনসহ ব্র্যাক যেসব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে তার একটি অংশ আসে আড়ংয়ের লভ্যাংশ থেকে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here