৪২ লাখে বিক্রি মাশরাফির ব্রেসলেট

0
346

স্টিলের সামান্য এক ব্রেসলেট, মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গী হয়ে সেটিই হয়ে উঠেছে অসামান্য। মাশরাফির ১৮ বছরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী সেই ব্রেসলেটের ওজন কতটা, বোঝা গেল নিলামে। যেটির ভিত্তিমূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা, নিলামে তুমুল আগ্রহ ও লড়াই শেষে সেই ব্রেসলেট বিক্রি হলো ৪২ লাখ টাকায়!

ফেইসবুকে ‘Auction 4 Action’ পেজ-এ নিলাম শেষে বিজয়ীর ঘোষণা দেওয়া হয় সোমবার প্রথম প্রহরে। ব্রেসলেট কিনে নিয়েছে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিএলএফসিএ। নিলামের সর্বোচ্চ দর ছিল ৪০ লাখ। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাড়িয়ে দিয়েছে আরও ৫ ভাগ। তাতে চূড়ান্ত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪২ লাখ টাকা।

এই অর্থ দিয়ে মাশরাফির ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে করোনাভাইরাসের এই দুঃসময়ে অসহায় মানুষদের।

তবে নিলামে বিক্রি হলেও ব্রেসলেট থাকবে হাতেই। বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান মমিন উল ইসলাম জানিয়েছেন, এই ব্রেসলেট কিনে নিয়ে তারা আবার মাশরাফিকেই উপহার দিতে চান।

দেড় যুগ আগে কাছের এক বন্ধুর মামাকে দিয়ে মাশরাফি বানিয়ে নিয়েছিলেন এই ব্রেসলেট। এরপর এই দীর্ঘ সময়ে ব্রেসলেটটি হাত থেকে খুলেছেন খুব কম সময়ের জন্য। নিলামে তোলার সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেছিলেন, এই ব্রেসলেট তার জীবনের কতটা জুড়ে আছে।

“গত ১৮ বছরে খুব কম সময়ই এটি খুলেছি হাত থেকে। অপারেশনের সময়, এমআরআই করানোর সময় খুলতে হয়েছে। আর কয়েকটি ম্যাচ বা কিছু সময়ের জন্য খুলেছি শুধু। তবে যখনই খুলেছি, কখনোই স্বস্তি বোধ করিনি। মনে হতো, কী যেন নেই, খালি খালি লাগত। আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, এটি আমার সৌভাগ্যের প্রতীক।”

“আমার ক্যারিয়ারের সব উত্থান-পতনের স্বাক্ষী এই ব্রেসলেট। যত লড়াই করেছি, মাঠের ভেতরে-বাইরে যত কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, সব কিছুর স্বাক্ষী এটি। আমার ১৮ বছরের সুখ-দুঃখের সাথী। আমার অনেক আবেগ-ভালোবাসা জড়িয়ে এটিতে, এই ব্রেসলেটকে আসলে ব্যাখ্যা করা আমার জন্য খুব কঠিন।”

ব্যাখ্যাতীত ভালোবাসার সম্পদ মাশরাফি হাতছাড়া করেছেন পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করেই। বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে বোলার নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যও। করোনাভাইরাস দুর্যোগের শুরু থেকেই নিজ এলাকায় ব্যাপক আকারে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি উদ্ভাবনী সব পদক্ষেপ নিয়ে দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন দেশজুড়ে। এছাড়াও ক্রিকেটারদের তহবিলে সহায়তা, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট আরও অনেক জায়গায়ও করেছেন সহায়তা। নিজ এলাকা থেকে শুরু করে ক্রিকেট আঙিনা, এই সহায়তা কার্যক্রমের বেশির ভাগই মাশরাফি করেছেন নিজের উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে।

কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, সেটি ভেবেই নিজের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গীকে বিসর্জন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাশরাফি।

“আমি আমার সাধ্যমতো করার চেষ্টা করেছি। এখনও করছি। কিন্তু সেটিরও তো শেষ আছে, আমার তো অঢেল টাকা নেই। যতটুকু বুঝতে পারছি, এই সঙ্কট অনেক দিন থাকবে। আমার তো মনে হয়, আমাদের জীবদ্দশার সবচেয়ে বড় ক্রাইসিস চলছে এখন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মনে হয় গোটা বিশ্ব এত বড় সঙ্কটে পড়েনি। আমাদের দেশের বাস্তবতা আরও কঠিন। প্রায় দুই মাস ধরে অনেক কিছু স্থবির হয়ে আছে। নিম্ন আয়ের মানুষ, এমনকি অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারও কষ্টে আছে।”

“আমার তাই মনে হয়েছে, আরও অনেক বড় পরিসরে সহায়তা করতে হবে সামনে এবং অনেক দিন ধরে করতে হবে। কেউই জানি না, কতদিন পরে আমরা মুক্তি পাব। আর করোনাভাইরাস চলে গেলেও কিন্তু আর্থিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে অনেক। এজন্য মনে হয়েছে, আমার সবচেয়ে কাছের কিছু নিলামে তুলে যদি তহবিল সংগ্রহ করা যায়, তাহলে আরও বেশি মানুষকে বেশি দিন ধরে সহায়তা করতে পারব।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here