আম্পান গুঁড়িয়ে দিল আমচাষির স্বপ্ন

0
53

ভরা মৌসুমে আমের ফলন ওঠার ঠিক আগে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান চাষিদের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে কয়েকটি জেলায় বড় আকারে আমের চাষ হয়। প্রতিবছর সাধারণত মে-এর মধ্যভাগ থেকে আম পাড়া শুরু হয়। বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যে আম পাড়ার সময়ও নির্ধারণ করে দিয়েছিল প্রশাসন।   

কিন্তু এরই মধ্যে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান বুধবার দুপুরের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে। পরে রাতে এ ঝড় প্রবেশ করে বাংলাদেশে। এরপর কয়েকটি জেলায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

প্রাথমিকভাবে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সারা দেশে এক লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমির ফল ও ফসলের ক্ষতির তথ্য এসেছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ঢাকায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ৭ হাজার ৩৮৪ হেক্টর জমির আমের আবাদের মধ্যে ১০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

তবে সাতক্ষীরা জেলায় ৬০-৭০ শতাংশ আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিভিন্ন জেলায় ঝড়েপড়া আম জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে কিনে তা ত্রাণ হিসেবে দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাজশাহী

বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঝড়ে রাজশাহীর অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আম গাছ থেকে ঝরে পড়েছে বলে কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বরেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, “রাতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসককে জানিয়েছিলাম যে ২০ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। তবে সকালে আমরা বিভিন্ন বাগান পরিদর্শন করে দেখছি ক্ষতির পরিমাণ আরেকটু কম। শহরে ১০ শতাংশ এবং চারঘাট উপজেলায় ১৫ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। তবে বাঘা উপজেলায় বেশি; সেখানে ঝরেছে প্রায় ২০ শতাংশ। সব মিলে আম ঝরেছে ১৫ শতাংশ।”

শামসুল হক আরও বলেন, “আম ঝরে গেলে ফলন কমে। এরপর চাষিরা যদি ভালো দাম না পান তাহলে হয়ত ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই আমের যেন সঠিক মূল্য পাওয়া যায় তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা করার চেষ্টা করছি।”

তবে রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক ক্ষতির পরিমাণ আরেকটু বেশি বলে মনে করেন। তিনি ক্ষতির পরিমাণ ২০ শতাংশ বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, আম্পানের মূল কেন্দ্র রাজশাহীতে আঘাত করেনি। তবে বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৫৫ মিনিট থেকে ২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫৯ কিলোমিটার। রাজশাহীতে ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টিপাতও হয়েছে। বুধবার ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮১ মিলিমিটার।

ব্যাংক কিংবা সরকারিভাবে প্রণোদনা না দিলে তারা পুঁজি হারিয়ে পথে বসবেন বলে আশঙ্কা করছেন।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গনি বলেন, ল্যাংড়া, হিমসাগরখ্যাত মেহেরপুরে এবার আম্পানে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে মাঠে কাজ শুরু করেছে। পরিমাণ জানা গেলে বাগান মালিকদের ক্ষতি উত্তরণে সরকারি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় কিনা সেটা ভেবে দেখা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here