পুলিশের চোখ এড়িয়ে ট্রাকে যাত্রী যাচ্ছে কীভাবে

0
319

তারপরও ঝড়ের সকালে উল্টে যাওয়া একটি ট্রাক সরিয়ে পাওয়া গেল ১৩ জনের লাশ। রডবোঝাই ওই ট্রাক যাত্রী নিয়ে কীভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকা থেকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পৌঁছাতে পারল?

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করেছে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন। তবে পুলিশ, যাত্রী আর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী তোলার নিয়ম থাকলেও তাতে ফাঁকও রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে হাইওয়েতে কাজ করা পুলিশ সদস্যরা বলছেন, পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো রাতে মহাসড়কে অনেকটাই বাধাহীনভাবে চলাচল করে। ফলে চালকরা ‘প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে’ যাত্রী তুললে অনেক ক্ষেত্রে বোঝার উপায় থাকে না।

আবার পুলিশকে ‘টাকা দিলে’ ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ যে অনেক পুরনো, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের একজন নেতা।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আন্তঃজেলা বাস বন্ধ প্রায় দুই মাস ধরে। তারপরও মানুষ নানা কৌশলে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাচ্ছে, সঙ্গে ছড়াচ্ছে ভাইরাস। 

গত দুই মাসে লকডাউনের মধ্যেও অন্তত দুই দফা মহাসড়কে পোশাক শ্রমিকদের স্রোত দেখেছে বাংলাদেশ। কেউ ট্রাকে বা পিকআপে, কেউবা অন্য বাহনে ভেঙে ভেঙে গ্রামের বাড়ি থেকে পৌঁছেছেন ঢাকা, গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জের কোনো পোশাক কারখানায়।

ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এবার সবাইকে যার যার অবস্থানে থেকে রোজার ঈদ করতে বলেছে সরকার। কিন্তু ঈদের দুদিন আগে শুক্রবারও দেখা গেছে, ঢাকা থেকে বিভিন্ন উপায়ে মাওয়া বা শিমুলিয়া ফেরি ঘাট কিংবা বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে পৌঁছে পরে বিকল্প বাহন খুঁজে বাড়ি পৌঁছানোর মরিয়া চেষ্টা।

গত ২৬ মার্চ থেকে প্রতিবার লকডাউনের মেয়াদ বাড়ার পর সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় দফায় দফায় বলে আসছে, পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী বহন করলেই শাস্তি। পুলিশ কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন।

কিন্তু তাদের চেষ্টা যে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হচ্ছে, সে কথা বলে দিচ্ছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ১৩ মৃত্যুর ঘটনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here