ঈদে আনন্দ করুন ঘরে থেকে: প্রধানমন্ত্রী

0
162

মহামারীর এই সময়ে ঈদ এলেও তাতে স্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতায় কোনো ঢিল না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঈদুল ফিতরের আগের দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি ‘ঈদ মুবারক’ জানিয়ে সবাইকে এবার ঘরে থেকেই ঈদ উদযাপন করতে বলেছেন।

রোববার দেওয়া এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী যেমন সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করতে বলেছেন, তেমনি এই সঙ্কটকালে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপও তুলে ধরেন।

দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে যারা কাজ করছেন, সেই চিকিৎসকসহ অন্যদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এক মাস রোজা শেষে রঙ হারানো ঈদের সামনে এখন বাংলাদেশ। সোমবার দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন হতে যাচ্ছে; যদিও ছোঁয়াচে এই রোগের বিস্তার থামছে না।

কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারী রূপ নিয়ে বাংলাদেশেও সংক্রমণ ঘটানোর পর গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে এক ধরনের ‘লকডাউন’ অবস্থা তৈরি করে সরকার।

রোজা শুরুর পর বিধি-নিষেধ কিছুটা শিথিল হলেও এখনও সংক্রমণ এড়াতে এখনও সবাইকে ঘরে থাকতেই বলা হচ্ছে।

সবাইকে ‘ঈদ মুবারক’ জানিয়ে শুরু করা এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। ঘরে বসেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করুন।”

ঈদ খুশিতে মেতে ওঠার দিন হলেও এবার রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রেক্ষাপট যে ভিন্ন, সেটা সবাইকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “করোনা নামক এক প্রাণঘাতী ভাইরাস সারা বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। তার উপর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

“করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ বছর সকল ধরনের গণ-জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে স্বাভাবিক সময়ের মতো এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করা সম্ভব হবে না। ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ঈদের আগে স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য নিয়মনকানুন মেনে কিছু কিছু দোকানপাট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছি। যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন এবং যারা দোকানে কেনাকাটা করতে যাচ্ছেন, আপনারা অবশ্যই নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন। ভিড় এড়িয়ে চলবেন।

“আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। মনে রাখবেন আপনি সুরক্ষিত থাকলে আপনার পরিবার সুরক্ষিত থাকবে, প্রতিবেশী সুরক্ষিত থাকবে, দেশ সুরক্ষিত থাকবে।”

সঙ্কটকালে ঈদের সময় ধনবানদের অন্যদের পাশের দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই দুঃসময়ে আপনি আপনার দরিদ্র প্রতিবেশী, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর কথা ভুলে যাবেন না।

“আপনার যেটুকু সামর্থ্য আছে, তাই নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান। তাহলেই ঈদের আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে আপনার ঘর এবং হৃদয়-মন।”

ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্সসহ যে স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা করছেন, তাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ সরকারের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন, তাদেরও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শেষ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ঈদের গান’ ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’ আবৃত্তির মধ্য দিয়ে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here