টাকা-স্বর্ণের জন্য’ পাবনায় ব্যাংকার ও স্ত্রী-কন্যা খুন: পুলিশ

0
328

পাবনা শহরে স্ত্রী-কন্যাসহ ব্যাংকার হত্যার অভিযোগে স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার পাবনা জেলা পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম।

শনিবার নওগাঁ থেকে তানভীর ইসলাম (২৫) নামের ওই ইমামকে গ্রেপ্তার এবং তার দেওয়া তথ্যে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র, লুট করা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করা হয় বলেও জানান পুলিশ সুপার।

তানভীর ইসলাম পাবনার মধ্য শহরের দিলালপুরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মসজিদের ইমাম এবং নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে।

গত শুক্রবার দিলালপুরের বাসভবন থেকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, তার স্ত্রী সুম্মা খাতুন ও মেয়ে সানজিদা খাতুনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার। এক পর্যায়ে ওই মসজিদের ইমাম তানভীর ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠাত হয়। মাঝে মাঝে মসজিদের পাশের তানভীরের ভাড়া বাড়িতে ডেকে জব্বারকে খাওয়াতেন। মাঝে মাঝে তানভীরও জব্বারের বাড়িতে গিয়ে থাকতেন।

পাবনায় ঘরের ভেতর স্বামী-স্ত্রী-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

পুলিশ সুপার বলেন, গত ৩১ মে তানভীর রাত্রিযাপনের উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে যান। রাতের খাবারের পর পারিবারিক আলাপ শেষে আব্দুল জব্বারের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন।

“পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে ঘুমন্ত আব্দুল জব্বারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা সুম্মা খাতুন ও সানজিদাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন।”

হত্যার পর আলমারি খুলে নগদ দুই লাখ টাকা, এক লাখ ভারতীয় রুপি ও সোনার গহনা নিয়ে গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুরে চলে যান বলে পুলিশকে জানান, বলেন এসপি রফিকুল ইসলাম।

“হত্যাকাণ্ডের চারদিন পর ৫ জুন ওই বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।”

এসপি জানান, এ ঘটনায় সুম্মা খাতুনের ভাই আব্দুল কাদের পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তানভীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার বিকালে পাবনার ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম কামাল হোসেনের আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে তানভীর ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাকে পাবনা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীমা আক্তার মিলি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আরাফাত লেনিন ও পাবনা সদর থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here