ধোনির শক্তি আস্থা, কোহলির সহজাত প্রবৃত্তি’

0
348

জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের সঙ্গে ক্রিকবাজের একটি আয়োজনে সাবেক অধিনায়ক ধোনি ও বর্তমান অধিনায়ক কোহলির নেতৃত্বের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন অশ্বিন।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টির ২০১০ সালের আসরে বিজয়ী দল চেন্নাই সুপার কিংসের সদস্য ছিলেন অশ্বিন। সেবারই সতীর্থের ওপর অধিনায়ক ধোনির আস্থা কতটা, ধারণা পান এই স্পিনার। দলে মুত্তিয়া মুরালিধরনের মতো অভিজ্ঞ স্পিনার থাকা সত্ত্বেও গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ান দল ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে সুপার ওভারের দায়িত্ব সেই সময়ের তরুণ অশ্বিনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ধোনি।

“সেবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে এটাই মঞ্চ, এটাই আমার সুপার ওভার। আমার কোনো ধারণা ছিল না, আমি সম্ভবত পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আজও যদি অধিনায়ক হিসেবে চিন্তা করি, সুপার ওভারে স্পিনার দিয়ে করানো আমার কাছে ভালো পদক্ষেপ নয়। কি আসছে না জেনেই সেদিন আমি হাত তুলেছিলাম…সে (ধোনি) মনে হয় চিন্তাও করেনি, হঠাৎ আলোচনা বন্ধ করে সে আমাকে বল দিয়ে চলে গেল।”

অশ্বিনের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো কাটে সেই ছয়টি বল। ডেভিড হাসির বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে যেন দিক হারিয়ে ফেলেন এই স্পিনার। তিন ছক্কায় ওই ওভারে আসে মোট ২২ রান। ম্যাচ হারে চেন্নাই।

তবুও অশ্বিনের ওপর বিশ্বাস হারাননি ধোনি। পরের দুই ম্যাচেও তাকে খেলান। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার দল ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে সেই আস্থার প্রতিদান দেন তিনি। মিতব্যয়ী বোলিংয়ে ৪ ওভারে ১৬ রানে নেন ২ উইকেট।

“এখন আমি বলতে পারি, সেদিন যদি আমি অধিনায়ক থাকতাম, আগের ম্যাচের ঘটনার পর ওই তরুণের হাতে আবার বল তুলে দিতাম না। এরপরও ধোনি আমাকে বল করতে দিয়েছিলেন।”

২০১৫ সালের শ্রীলঙ্কা সফরে কোহলির ক্রিকেট জ্ঞান সম্পর্কে ধারণা পান অশ্বিন। গলে সিরিজের প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং করে ১০ উইকেট নেন তিনি। তবে কোহলির পরামর্শে প্রথম ইনিংসে লঙ্কান ব্যাটসম্যান জেহান মুবারককে শূন্য রানে আউট করার সেই স্মৃতি এখনও মনে পড়ে তার।

“বিরাট খুবই আলাদা যখন সে বিশেষ কোনো পরামর্শ দেয়। দেশের বাইরে অধিনায়ক হিসেবে সেটাই ছিল তার প্রথম সিরিজ। গলে অবিশ্বাস্য এক স্পেল করেছিলাম, যেটা ছিল স্বপ্নের মতো। ওই স্পেলে মুবারক যখন ক্রিজে এলো আমাদের পয়েন্ট, কাভার, এক্সট্রা-কাভার, মিড-অফ, মিড-অন ও স্কয়ার লেগে ফিল্ডার ছিল। স্লিপ, গালি ও সিলি পয়েন্টে তো ছিলই।”

“আমাকে এসে বলল, ‘অ্যাশ, আমার মনে হয় তোমার শর্ট লেগেও একজন দরকার।’ আমি বললাম ঠিক আছে, লেগ স্লিপ থেকে সরিয়ে এখানে আনা যায়। সে বলল, ‘না, না, আমার মনে হয় লেগ স্লিপের সঙ্গে তোমার শর্ট লেগেও একজন রাখা উচিত।’ সে কাভারের ফিল্ডার সরিয়ে দিল। আমাকে বলল, যেমন খুশি বোলিং করতে, কিন্তু মাঠে কাভারে কোনো ফিল্ডার নেই সেটা খেয়াল রাখতে।”

“আমি বললাম, ‘বিরাট, কোনো কাভার নেই? বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য বল বেরিয়ে যাবে, আর কোনো কাভার লাগবে না?’ তার ভাব এমন ছিল যে, ‘আরে বল করো, চার হলে হবে।’ আমিও বল করলাম। পিচে পড়ে সোজা গেল বলটি, এরপর সরাসরি শর্ট লেগ ফিল্ডারের হাতে। আমি শুধু ভাবছিলাম, সত্যিই এমনটা ঘটল?”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here