হজে যাওয়ার আশা ফিকে

0
338

হজে যেতে প্রাক নিবন্ধন ও নিবন্ধনের জন্য টাকা জমা দিলেও করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার আর সৌদি আরবে যাওয়া সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন নিবন্ধনকারীরা।

হজের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তারাও তাদের আশা দেখাতে পারছেন না। তবে তারা আশ্বস্ত করেছেন, শেষ পর্যন্ত এবার বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে না পারলেও কারও টাকা খোয়া যাবে না।

হজ নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বছর হজের বিষয়ে এখনও সৌদি সরকার কিছু জানায়নি। আশা করছি রবি-সোমবার একটা কিছু জানাবে।

“সৌদি সরকার কী জানায় এবং আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কী সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর সব কিছু নির্ভর করছে।”

গত মার্চের প্রথম দিকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এখনই সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বৃহস্পতিবার লাখ ছাড়িয়েছে। আর শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশে এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৮৮ জন হয়েছে।

সৌদি আরবেও মহামারী পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং সেখানেও সংক্রমণ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার একদিনে দেশটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭৫৭ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে সৌদি গেজেট জানিয়েছে।

তাতে সৌদি আরবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৯৯১ জনে। আর মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৩৯ জনে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে মানুষের চলাচলে বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়া হলেও সৌদি আরবে গত তিন মাস ধরে চলমান লকডাউন এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এই অবস্থায় এবার আর হজে যাওয়া হবে না বলেই মনে করছেন মো. দেলোয়ার হোসেন, যিনি সময়মতো নিবন্ধন করেছিলেন।

শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমি এ বছর হজে যাওয়ার কোনো আশাই করছি না। সৌদি আরব মনে হয় না কাউকে নেবে।

“ধারণা করছি, সৌদি সরকার আশপাশের দুই-একটি দেশ থেকে অল্প কিছু সংখ্যক লোক নিয়ে হজের কাজটা এই বছর চালিয়ে নেবে।”

করোনাভাইরাসের কারণে হজে যেতে না পারলেও জমা করা টাকা খোয়া যাবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “প্রাক নিবন্ধন ও নিবন্ধনের টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে দিতে হয়। টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয় যেন এই টাকা আর কেউ উঠাতে না পারে।

“পরে বিমানের টিকেট বা অন্যান্য বাবদ পে-অর্ডারের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করা যাবে। সুতরাং যারা হজে যেতে পারবেন না তাদের টাকা খোয়া যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, এ বছর কেউ হজে যেতে না পারলে তারা তাদের টাকা ফেরত নিতে পারবেন। আবার আগামী বছর যেতে চাইলেও তারা যেতে পারবেন। সেটা তার ওপর নির্ভর করবে।

সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার জনের হজে যাওয়ার সুযোগ ছিল।

সে মোতাবেক ১ মার্চ থেকে হজে যেতে আগ্রহীদের নিবন্ধন শুরু হয়। তবে ৮ মার্চ দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী ধরা পড়লে নিবন্ধনে ভাটা পড়ে। এরপর প্রথম দফায় ২৫ মার্চ, দ্বিতীয় দফায় ৮ এপ্রিল এবং শেষ দফায় ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়।

শেষ পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন হাজার ৪৫৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ১৩৭ জনসহ মোট ৬৪ হাজার ৫৯৪ জন নিবন্ধন করেন।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের সময় প্রত্যেককে এক লাখ ৮২ হাজার ৯৫২ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়েছে। তাতে মোট

এক হাজার ১১৮ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার ৪২৪ টাকা। সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া ও মোয়ালেম ফি হিসেবে পরে তাদের আরও টাকা দেওয়ার কথা।

আর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের জন্য যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদের প্যাকেজ অনুযায়ী পুরো টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়।

সরকারিভাবে এবছর হজের যে তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে প্রথম প্যাকেজে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় প্যাকেজে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় প্যাকেজে তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here