বেনাপোল দিয়ে আমদানি সচল হলেও পণ্য নিচ্ছে না ভারত

0
332

করোনাভাইরাসের কারণে দুই মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য আমদানি শুরু হলেও রপ্তানি এখনও বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, গত ২২মার্চ থেকে এই দুই বন্দরের মধ্যে আমদানি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে দুই দেশের বন্দর, কাস্টমস, বন্দর ব্যবহারকারীদের দফায় দফায় বৈঠকের পর ৮ জুন থেকে সীমান্ত বাণিজ্য সচল হয়। এরপর থেকে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে এলেও বাংলাদেশি কোনো পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়নি।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, “তিন মাস এ পথে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বৈঠকে রপ্তানি চালু করার চেষ্টা হয়েছে; কিন্তু সফলতা আসছে না।

“যেহেতু আমদানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে,তাই উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা না হলে রপ্তানি চালু করা সম্ভব হবে না।”

বেনাপোল কাস্টম ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় ২২মার্চ থেকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। গত ৮ জুন থেকে আবার আমদানি শুরু হয়েছে।

ওই সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন বলেন, স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন দেড়শ থেকে দুইশ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়।

“বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের বড় বাজার প্রতিবেশী দেশ ভারত। প্রতি বছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা মূল্যের নয় হাজার মেট্রিকটন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। অবশ্য ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয় এর ঢের বেশি। এখন ভারত থেকে পণ্য আসছে অথচ ওরা আমাদের পণ্য নিচ্ছে না, এতে বৈষম্য আরো বেড়ে যাচ্ছে।”

ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কমার্স সাবকমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, এ বছর ১০হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্য হওয়ার কথা ছিল কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা থমকে গেছে। রপ্তানি বাণিজ্য সচলের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মামুন কবীর তরফদার বলেন, “যে প্রক্রিয়ায় আমদানি শুরু হয়েছে সেই প্রক্রিয়ায় যেনো রপ্তানি চালু হয়’ এ বিষয়টি পেট্রাপোল বন্দরকে আমরা বলেছি।স্বাস্থ্যবিধি মেনে রপ্তানি চালু করতে কোনো অসুবিধা দেখছি না। রপ্তানি বাণিজ্য সচলের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

“বিষয়টি তাদেরকে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রি রপ্তানি শুরু হবে।”

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে সাধারনত ওভেন গার্মেন্টস,নিটেড গার্মেন্টস,নিটেড ফেব্রিকস,চিংড়ি মাছ, বিভিন্ন ধরনের সাদা মাছ, কাঁচা পাট, পাটজাত দ্রব্য (পাটের ব্যাগ,পাটের সূতা,চট),টিস্যু, সুপারি,ধানের কুড়া,কর্টন র‌্যাগস (ঝুট), ফ্লোট গাস,ব্যাটারি, জিংক পেট, সিরামিক টাইলস, সাবান, হাড়ের গুড়া, কাঁচা চামড়া, প্রক্রিয়াজাত চামড়া, ওষুধ, সবজি,ফল, চা, পেট্রোলিয়াম বাই প্রোডাক্ট, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য ও সিমেন্ট রপ্তানি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here