অগ্নিদগ্ধ সাংবাদিক নান্নুর মৃত্যু: স্ত্রী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে হত্যামামলা

0
287

সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড দাবি করে তার স্ত্রী -শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলার করেছেন তার ভাই।

নান্নুর বড় ভাই নজরুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে সোমবার বাড্ডা থানায় এই মামলা করেন বলে থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

নান্নুর স্ত্রী শাহিনা হোসেন পল্লবী (৪৫) এবং শাশুড়ি শান্তা পারভেজকে (৬২) আসামি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

মামলায় নান্নুর স্ত্রী যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তার নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি।

মৃত্যুর ১৫ দিন বাদে এই মামলা হওয়ার পর নান্নুর লাশ উঠিয়ে ময়নাতদন্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান ওসি।

দৈনিক যুগান্তরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নান্নু বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

গত ১১ জুন রাতে ঢাকার আফতাব নগরের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর নান্নুকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুদিন পর তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর পর পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা নিলেও ঘটনা তদন্তের কথা জানিয়েছিল। পরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

ওই কমিটির কোনো প্রতিবেদন আসার আগেই নান্নুর ভাই হত্যামামলা দায়ের করলেন।

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, নান্নু অগ্নিদগ্ধ হওয়ার সময় আফতাব নগরে তার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ছাড়াও নান্নুর শাশুড়ি শান্তা পারভেজ ছিলেন। ১১ জুন ঘটনার রাতে নান্নু অফিস থেকে বাসায় ফেরার পর স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয়। এর কিছু পরেই নান্নু অগ্নিদগ্ধ হন।

নান্নুর স্ত্রী পল্লবী হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যে ঘরে তাদের সন্তান স্বপ্নিল ছয় মাসে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল, রাতে ফেরার পর সেই ঘরে নান্নু সুইচ টিপলেই আগুন ধরে যায়।

নান্নুর মৃত্যুর মাত্র ছয় মাস আগে এবছরের ২ জানুয়ারি ওই একই ঘরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে তাদের একমাত্র সন্তান স্বপ্নীল আহমেদ পিয়াস (২৪) মারা যান।

বাড্ডা থানার ওসি পারভেজ এর আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, ওই রাতে নান্নুর সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝগড়া হওয়ার খবর তারা প্রতিবেশীদের কাছে শুনেছিলেন।

ঘটনার সময়কার একটি ভিডিও ফুটেজের বর্ণনা দিয়ে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নান্নু নিজে ছাদে গিয়ে পাইপ এনে আগুন নেভান, তার স্ত্রী বা শাশুড়িকে আগুন নেভাতে দেখা যায়নি। এছাড়া দগ্ধ নান্নু একাই ১০ তলা থেকে হেঁটে নিচে নেমে আসেন। এসময়ও তার স্ত্রী বা শাশুড়িকে তার পাশে দেখা যায়নি। পরে ফ্ল্যাটের লোকজন নান্নুকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

নান্নুর অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে নড়াইল থেকে আসতে চেয়েছিলেন জানিয়ে নজরুল বলেন, তখন নান্নুর স্ত্রী এবং তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তাদের হাসপাতালে আসতে বারণ করেছিলেন। 

নান্নু মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী ও তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী মিলে শ্বশুর বাড়িতে লাশ দাফন করে বলে এজাহারে অভিযোগ করেছেন নজরুল।

তিনি বলেছেন, তাদের কিছু না জানিয়েই এসব করা হয়েছে। খবর শুনে তার স্বজনদের কেউ কেউ গেলেও নান্নুর স্ত্রী লাশ দেখতে দেয়নি।

মৃত্যুর আগে নান্নুকে কিছু খাওয়ানো হয়েছিল বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তার ভাই।

এসব বিষয়ে নান্নুর স্ত্রী কিংবা শাশুড়ির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওসি বলেন, “এজাহারের প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে। সেই প্রধান নির্বাহী কে, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

“তার বাসা থেকে যে স্যুপ আনা হয়েছিল, সেই স্যুপে কিছু মেশানো ছিল কি না, তাও তদন্তের মধ্যে আসবে।”

পুলিশের যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারাও কাজ করছে বলে জানন ওসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here