জনমিতিক সুবিধার ফল পেতে শিক্ষায় চাই সর্বোচ্চ বিনিয়োগ: দীপু মনি

0
412

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে উঠতে জনমিতিক সুবিধার ফল পেতে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের উপর জোর দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের বিশেষ ওয়েবিনার ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’র অষ্টম পর্ব ‘তরুণদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি: আগামীর কৌশল নির্ধারণ’ এ তিনি এই মত প্রকাশ করেন।

দীপু মনি বলেন, “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জন করতে গেলে সময় বেশি নেই, ১০-১১ বছর আছে। সেটি করতে হলে যে বিনিয়োগ করতে হলে শিক্ষাতেই সেই বিনিয়োগটি হতে হবে সর্বোচ্চ।

“সেই বিনিয়োগের জায়গাটিতে আমরা নজর দিচ্ছি। সেই বিনিয়োগটি যেন পরিকল্পিত হয়, বিনিয়োগটির যেন সঠিক ব্যবহার হয়, স্বচ্ছতার সঙ্গে, জবাবদিহিতার সঙ্গে, সেটিও আমরা নিশ্চিৎ করতে চাই।”

দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার কাজটি একেবারে শৈশব থেকেই শুরু করতে চান শিক্ষামন্ত্রী।  

“একদম স্কুল পর্যায় থেকে আমরা ওরিয়েন্টেশনটা আনতে চাই, একদম শৈশব থেকে, যেন শৈশব থেকে সকল কাজকে সম্মান করতে শেখে। তার মনোজগতে এই পরিবর্তনটি আমরা আনতে চাই।”

বাণিজ্য ক্ষেত্রের চাহিদা অনুসারে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করেন দীপু মনি।

ওয়েবিনারে এই আলোচনার সূত্রপাত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর।

তিনি বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থায় ফ্লেক্সিবল ডিগ্রি দিতে হবে, ফ্লেক্সিবল কনটেন্ট তৈরি করতে হবে ও পারসোনালাইজ কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। ফ্লেক্সিবল ডিগ্রির কথা আমরা রিজিট। “বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা যদি বাদও দেই, আমরা টেকনিক্যাল ও ভোকেশনালের ক্ষেত্রে চার বছর, দুই বছর.. এমন রিজিটের মধ্যে আছি। পৃথিবীতে কতগুলো টার্ম ব্যবহার করা হচ্ছে…. ন্যানো ব্যাচেলর, ন্যানো মাস্টার্স। যেগুলোকে বলা হচ্ছে লেগো কনসেপ্ট। আপনার দরকার ১০টা লেগো, একটা স্পেশালাইজড জবে যেতে। ৯টা লেগো নিয়ে যে জবে গেল, পরে প্রয়োজন হলে ৩টা লেগো নিতে সে আবার তার ইনস্টিটিউশনে আসবে।”

“আমরা যদি ৪১ সালের লক্ষ্যমাত্রায় থাকি, তাহলে ২১ বছরের মধ্যে আমরা তরুণদের মাঠে নামাতে হবে। ফ্লেক্সিবল ডিগ্রি, ফ্লেক্সিবল কনটেন্ট তাই গুরুত্বপূর্ণ,“ বলেন অধ্যাপক মুনাজ।

তার কথার সূত্র ধরে দীপু মনি বলেন, “আমাদের নতুন নতুন পথ তৈরি করতে হবে। যেন একটা দক্ষতা বা শিক্ষা আরেকটা দক্ষতায় সহজে যাওয়া যায়। আমাদের এখানে এটা সহজে হয় না। এতে বড় বড় সিদ্ধান্ত হবে শিগগিরই।”

দক্ষতার প্রশিক্ষণ মানসম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রদত্ত সনদটির যেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকে, সেজন্য কাজ করা হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার তার মন্ত্রণালয় কারিগরি শিক্ষার মানের দিকে নজর দেবে। তবে তার বৈশ্বিক প্রয়োজনের সঙ্গে ‘সাযুজ্যপূর্ণ কারিকুলাম’ প্রণয়নের পাশাপাশি ‘স্কিল ম্যাপিং’ করতে হবে।

শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক নিয়ে আসা হবে বলে জানান তিনি।

আলোচনা যুক্ত হয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, “উচ্চ শিক্ষার গতানুগতিক প্যাটার্ন থেকে বের হয়ে আসা ছাড়া উপায় নাই। আমাদের অর্থনীতি কিন্তু বিশাল সংখ্যক তরুণ তরুণীকে অ্যাবজর্ভ করার অর্থনীতি নয়।

“আমাদের অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে আমরা উৎপাদনমুখী শিল্পের দিকে যাচ্ছি। আমার সার্ভিস সেক্টর পাশ্চাত্যের মতো উন্নত মানের নয়। সার্ভিস সেক্টর বেইজড ওয়ার্কিং পপুলেশন সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। এ পপুলেশকে রি-স্কিলিং করতে হবে।”

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল জানান, সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে সেলফ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট সিড নামে একটি ভার্চুয়াল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার চালু করা হবে। 

এ সেন্টার থেকে তরুণরা স্টার্ট আপ বা ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে নানা প্রশিক্ষণ পাবে ভার্চুয়ালি।

প্রতিমন্ত্রী রাসেল জানান,আগামী  তিন বছরে ১০ লাখ বেকার যুবকদের ‘আত্মকর্মী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় আলোচনায় যোগ দেন গুরুকুল অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর, দৈনিক জনকণ্ঠের শিক্ষাবিষয়ক প্রতিবেদক বিভাষ বাড়ৈ।

‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিকের অষ্টম পর্বটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অফিসিয়াল ফেইসবুক পাতায় সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here