জলবায়ু উদ্বাস্তু ৬০০ পরিবার বুঝে পেল ফ্ল্যাটের চাবি

0
413

তিন দশক আগে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর লাগোয়া সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় উদ্বাস্তু জীবন কাটানো ছয়শ পরিবার পেল নতুন ঠিকানা।   

কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে তারা বুঝে পেলেন নতুন ফ্ল্যাট।

বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আর অনুষ্ঠানের কক্সবাজার প্রান্তে জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয় ফ্ল্যাটের চাবি।   

তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, “খুরুশকুলে আলাদা একটি সুন্দর শহর গড়ে উঠবে। আপনারা এতদিন যেভাবে ছিলেন কষ্টের মধ্যে, আমি নিজে গিয়েছি, আমি দেখেছি সেই জায়গা, কাজেই আপনারা এখানে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবেন। আপনাদের ছেলেমেয়েরাও ভালোভাবে বড় হবে, মানুষের মত মানুষ হবে, সেটাই আমরা চাই।”

কেবল কক্সবাজার নয়, সারা দেশে যেখানেই ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষ আছে, সরকার তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন ঘর করে দিচ্ছি, পাশাপাশি যাদের জমি আছে, তাদের ঘর করে দেওয়ার জন্য গৃহায়ন তহবিল নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা তহবিল করা আছে, সেখান থেকে যে কোনো প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে ঘর করতে পারে।

“আমরা নিজেরাও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে যাদের ভিটা আছে, কিন্তু ঘর নাই, তাদের ঘর করে দিচ্ছি। অর্থাৎ আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। আর সেই লক্ষ্য আমাদের অর্জন করতে হবে। এভাবে আমরা কিন্তু সমস্ত পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

“জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে আমাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষকে আমি যেভাবে পারি, গরিবানা হালে হলেও মাথা গোজার ঠাঁই আমরা করে দেব।”

খুরুশকুলের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ফ্ল্যাট পাওয়া পরিবারগুলোর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে যাদের ঘরবাড়িগুলো করে দেওযা হল, মনে রাখবেন, এগুলো আপনাদের নিজের। সেভাবে যত্ন নিয়ে ব্যবহার করবেন, সুন্দরভাবে যাতে থাকে সেটা দেখবেন।”

করোনাভাইরাসের মহামারীতে দেশের অগ্রগতিতে বাধার সৃষ্টি করেছে মন্তব্য করে সবাইকে স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনাও স্মরণ করেন তার মেয়ে শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানের গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আর কক্সবাজার প্রান্তে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

কক্সবাজার শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে খুরুশকুলে বাঁকখালী নদীর তীরে ২৫৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে এই ‘বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প’। পুরো এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করে ১৩৯টি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলে এসব ভবনে বসবাসের সুযোগ পাবে ৪ হাজার ৪০৯টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার, যারা কক্সবাজার বিমানবন্দরের পালে ফদনার ডেইল, কুতুবদিয়া পাড়া ও সমিতি পাড়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বহু বছর ধরে।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর বাস্তুহারা মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে এসব এলাকায় সরকারি খাস জমিতে আশ্রয় নেয়। পরে বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত আরও অনেক পরিবার যোগ দেয় তাদের সঙ্গে। 

১৯৯৭ সালের ১৯ মের ঘূর্ণিঝড়ের পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রথম প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবার ঘর পেয়েছে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here