‘যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলায় পারমাণবিক শক্তি বাড়াচ্ছে চীন’

0
135
post 2590

পারমাণবিক শক্তি বাড়িয়েছে চীন। এতটাই বাড়িয়েছে যে তারা এখন বিশ্বের এক নম্বর ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি একটি সংস্থা উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি চীন উত্তর-পশ্চিমের ইয়ুমেন শহরের কাছের মরুভূমিতে ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করার ১২০টি নতুন গোডাউন (সাইলো) তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গত বছর দাখিল করা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের ধারণা, চীন যেভাবে তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ও এর আধুনিকায়ন করছে, তাতে দেশটি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের সংখ্যা অচিরেই অন্তত দ্বিগুণ করে তুলবে।

আমেরিকার সংস্থাটির ধারণা, চীনের কাছে প্রায় ২৫০ থেকে ৩৫০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। তবে ১২০টি সাইলোতে আলাদা করে নতুন কত সংখ্যক নিউক্লিয়ার মিসাইল আছে তা জানা নেই মার্কিন সংস্থাটির। এমনও হতে পারে বহির্বিশ্বকে বোকা বানাতেই নতুন ১২০টি সাইলো নির্মাণ করেছে চীন। স্নায়ু যুদ্ধের সময় স্বয়ং আমেরিকা নিজেই এই কৌশল গ্রহণ করেছিল।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র চীনের পারমাণবিক কর্মসূচির দ্রুত অগ্রগতি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে।ওয়াশিংটন বারবারই চীন ও রাশিয়ার প্রতি নতুন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে বেইজিং এতে সাড়া দিচ্ছে না। উপরন্তু দেশটি অস্ত্র কর্মসূচি নাটকীয়ভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে। আর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, এসব যুদ্ধাস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩৫৭টি গত ১ মার্চ পর্যন্ত মোতায়েন ছিল।

চীনের অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইস বলছেন, মরুভূমিতে তৈরি হওয়া এবং নির্মাণাধীন সাইলোর সঙ্গে যদি চীনের অন্য প্রান্তের সাইলো যোগ করা হয়, তবে মোট ১৪৫ হবে। আমার বিশ্বাস চীন তাদের পারমাণবিক শক্তি বাড়াচ্ছে যার মধ্যে আমেরিকার হামলা থেকে বাঁচার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিও আছে। সব মিলিয়ে চীনের অস্ত্রভাণ্ডারে পারমাণবিক শক্তির প্রাচুর্য বাড়া নিয়ে চাপে আমেরিকা।

সম্প্রতি চীনের কমিউনিস্ট পার্টি শতবর্ষে পদার্পণ করে। এই উপলক্ষে কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিং ঝাঁঝালো বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, চীনকে কেউ আর বোকা বানাতে পারবে না। কেউ যদি চেষ্টাও করে তাহলে রক্তারক্তি হবে।

গৃহযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উন্নতি শুরু হয়েছে উল্লেখ করে শি জিনপিং বলেন, চীন তার সম্মান ফিরে পেয়েছে। আজ গোটা বিশ্বের এক অন্যতম বড় শক্তি। আমরা কোনো দিন কোনো দেশের উপর দাসত্ব বা অত্যাচার করিনি। অতীতে করিনি, এখন করি না এবং ভবিষ্যতেও করব না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here