৩৫ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে জনপ্রশাসন পদক প্রদান

0
52

জনপ্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ৩৫ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান পেল জনপ্রশাসন পদক। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে এ পদক প্রদান করা হয়।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। তার পক্ষ থেকে পদক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ওসমানী মিলনায়তনে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে ২০২০ সালে জনপ্রশাসন পদক দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবার ২০২০ ও ২০২১ সালের পদক একসঙ্গে দেওয়া হচ্ছে।

২০২০ সালের জন্য জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৫টি এবং ২০২১ সালের জন্য ২০টি পদক দেওয়া হয়।

জাতীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত শ্রেণিতে (সাধারণ ক্ষেত্র) জনপ্রশাসন পদক-২০২১ পেয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জিয়াউর রহমান। তিনি মোটরযানের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করার কাজের জন্য এই পদক লাভ করেন। ইউনেসকোতে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের আন্তর্জাতিকীকরণের লক্ষ্যে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার জন্য দলগত শ্রেণিতে (সাধারণ) পদক পেয়েছেন প্যারিসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেসকোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজী ইমতিয়াজ হোসেন ও তাঁর দল।

প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিতে এই পদক পেয়েছে বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিন সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার প্রকল্প। এ ছাড়া পরিবার পরিচিত কাজের জন্য ব্যক্তিগত (কারিগরি ক্ষেত্র) শ্রেণিতে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিবন্ধনের কাজের জন্য দলগত (কারিগরি) শ্রেণিতে যৌথ মূলধন কোম্পানি বা ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের তৎকালীন নিবন্ধক (বর্তমানে তথ্য ও সম্প্রচারসচিব) মো. মকবুল হোসেন ও তাঁর দল এবং পেনশন ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশন কাজের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিতে (কারিগরি) অর্থ বিভাগ এই পদক পেয়েছেন।

জেলা পর্যায়ে পঞ্চগড়ের সাবেক জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন (ব্যক্তিগত) এবং দলগত শ্রেণিতে খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন ও তাঁর দল এই পদক পেয়েছেন। এর মধ্যে সাবিনা ইয়াসমিন ‌কন্যারত্নের জন্য এবং হেলাল হোসেন ও তাঁর দল বানীশান্তা যৌনপল্লিতে জন্ম নেওয়া সমাজচ্যুত শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য এই পদক পেয়েছেন।

জনপ্রশাসক পদক ২০২০ পেয়েছেন দলগত শ্রেণিতে ‘মাতৃমৃত্যু মুক্ত কাপাসিয়া মডেল’–এর উদ্ভাবক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম ও তাঁর দল। এ ছাড়া ওই বছরের জেলা পর্যায়ে ব্যক্তিগত শ্রেণিতে পদক পেয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন। তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের জন্য তিনি এই পদক পেয়েছেন। দলগত শ্রেণিতে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর রশীদ ও তাঁর দল পিপিপি অনুসরণ করে আধুনিক মানের সুইমিংপুল, জিমনেশিয়াম ও মিনি লাইব্রেরি স্থাপনের জন্য এবং টাঙ্গাইলের সাবেক জেলা প্রশাসক (বর্তমানে ঢাকার ডিসি) মো. শহীদুল ইসলাম ও তাঁর দল টাঙ্গাইলে বধ্যভূমি সংস্কার ও নবরূপে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য এই পদক পেয়েছেন। একই বছর প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিতে হাটহাজারী ইউএনও কার্যালয় এই পদক পেয়েছেন।

জনপ্রশাসন পদকের জন্য ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে পদক দেওয়া হয়।

২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর ২৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক দিয়ে আসছে সরকার। দিনটি জনপ্রশাসন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জাতীয় পর্যায়ে তিন ক্যাটাগরির পুরস্কারপ্রাপ্তদের ১৮ ক্যারেট মানের এক ভরি ওজনের স্বর্ণপদক এবং সনদ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে জাতীয় পর্যায়ে ব্যক্তি শ্রেণিতে জনপ্রতি এক লাখ টাকা এবং দলগত অবদানের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পেয়েছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিতে শুধু পদক ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ব্যক্তি শ্রেণিতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা সনদ ও ৫০ হাজার টাকা এবং দলগত শ্রেণিতে বিজয়ীরা সনদের সঙ্গে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পেয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here