করোনা হাসপাতালে কেনাকাটায় অনিয়ম

0
50

জনগণের করের টাকায় কেনা চিকিৎসা উপকরণ হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে গেছে। সরঞ্জাম না পেলেও একটি হাসপাতাল ঠিকাদারকে বিল দিয়ে দিয়েছে। চিকিৎসক-নার্সদের কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য যে দামে হোটেলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, একটি হাসপাতাল হোটেল মালিককে বিল দিয়েছে তার চেয়েও বেশি দরে। খাবারের বিলও দেওয়া হয়েছে অস্বাভাবিক বেশি। নিয়ম না থাকলেও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দরে ওষুধ কেনা হয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন ১৫টি করোনা ডেডিকেটেডহাসপাতালের ওপর করা কমপ্লায়েন্স (সার্বিক মান) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে করা প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের মহা হিসাবনিরীক্ষক নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয় দুই মাস আগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠিয়েছে।

দেশে গত বছরের মার্চে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর করোনা পরীক্ষার নামে জালিয়াতি, বেশি দামে মাস্কসহ সুরক্ষাসামগ্রী কেনা, চিকিৎসকদের উন্নতমানের মাস্কের নামে নিম্নমানের মাস্ক দেওয়া, নিয়োগে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগসহ দুর্নীতি-অনিয়মের নানা ঘটনা বেরিয়ে আসে। সামনে আসে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় নানা ঘাটতি।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে গত জুনে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের পদত্যাগেরও দাবি ওঠে। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ঢালাও অভিযোগ দিলে তো চলবে না।’ অবশ্য এবার সাংবিধানিক সংস্থা সিএজি কার্যালয় রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কোনো জবাবদিহি নেই বলেই মহামারিকালেও কিছু মানুষ দুর্নীতি করতে পারছে। কর্তাব্যক্তিরা শুধু বলে চলেছেন, তদন্ত প্রক্রিয়াধীন আছে, প্রক্রিয়াধীন আছে। দেড় বছরের বেশি সময়ে একজনেরও শাস্তির নজির দেখতে পেলাম না।

যেসব হাসপাতালে বেশি অনিয়ম

সিএজির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ৪১৭ কোটি টাকা থেকে খরচ হয় ৩২০ কোটি টাকা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালেই বেশি অনিয়ম পেয়েছে নিরীক্ষা দল। অনিয়ম প্রক্রিয়ায় জড়িত পণ্য সরবরাহকারী বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানও।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি এম ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘কোভিডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কেনাকাটায় কিছু ইচ্ছাকৃত, কিছু অনিচ্ছাকৃত অনিয়ম হয়েছে। তবে প্রভাব বিস্তারের ঘটনাও আছে। সিমেন্টের ব্যবসায়ী যখন ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) সরবরাহের কাজ পেল, তখন কাজদাতার কাছে এর কারণ জানতে চাইলাম। জবাব পেলাম, মন্ত্রণালয়ের চাপে তিনি বাধ্য হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘যাঁরা বাধ্য করেছেন তাঁরা কিন্তু বিলাইয়ের মতো মুখ মুছে ফেলেন। মাঝখানে ফেঁসে যান চিকিৎসকেরা।’

ভয় দেখিয়ে বিল

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন বাবদ বরাদ্দ ৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে কারাগারে থাকা রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট ডিসকভারি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস আবাসিক হোটেল ও খাবার বিল বাবদ নিয়ে গেছে দুই কোটি ২৭ হাজার টাকা। রিজেন্টের কোনো হোটেল নেই, কোয়ারেন্টিনের জন্য কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের তালিকাভুক্ত হোটেলের মধ্যে রিজেন্ট ডিসকভারির নামও নেই।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল বিল দিয়েছে হোটেল মিলিনাকে, কিন্তু তা চলে গেছে রিজেন্ট ডিসকভারির হিসাবে। বিলের সঙ্গে হোটেলে অবস্থানকারীদের স্বাক্ষরসহ নামের তালিকাও নেই। কাল্পনিক বিলের বিপরীতে টাকা দেওয়া হয়েছে মো. সাহেদকে। আর মো. সাহেদ অনেকটা প্রশাসনিক ভয়ভীতি দেখিয়ে হোটেল ও খাবার বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করেছেন। এমনকি ট্রেজারি থেকে চেক তুলে নিয়ে তিনি চেকের ফটোকপিও জমা দেননি।

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহ আগপর্যন্ত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রীর পরিচালক ছিলেন সারওয়ার উল আলম। গত সোমবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শিহাব উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘মো. সাহেদের সঙ্গে চুক্তি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অন্য আপত্তিগুলো ঠিকই আছে। মাঝখানে কিছু সংশোধনও করা হয়েছে।’

যেসব হাসপাতালে বেশি অনিয়ম

সিএজির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ৪১৭ কোটি টাকা থেকে খরচ হয় ৩২০ কোটি টাকা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালেই বেশি অনিয়ম পেয়েছে নিরীক্ষা দল। অনিয়ম প্রক্রিয়ায় জড়িত পণ্য সরবরাহকারী বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানও।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি এম ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘কোভিডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কেনাকাটায় কিছু ইচ্ছাকৃত, কিছু অনিচ্ছাকৃত অনিয়ম হয়েছে। তবে প্রভাব বিস্তারের ঘটনাও আছে। সিমেন্টের ব্যবসায়ী যখন ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) সরবরাহের কাজ পেল, তখন কাজদাতার কাছে এর কারণ জানতে চাইলাম। জবাব পেলাম, মন্ত্রণালয়ের চাপে তিনি বাধ্য হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘যাঁরা বাধ্য করেছেন তাঁরা কিন্তু বিলাইয়ের মতো মুখ মুছে ফেলেন। মাঝখানে ফেঁসে যান চিকিৎসকেরা।’

ভয় দেখিয়ে বিল

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন বাবদ বরাদ্দ ৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে কারাগারে থাকা রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট ডিসকভারি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস আবাসিক হোটেল ও খাবার বিল বাবদ নিয়ে গেছে দুই কোটি ২৭ হাজার টাকা। রিজেন্টের কোনো হোটেল নেই, কোয়ারেন্টিনের জন্য কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের তালিকাভুক্ত হোটেলের মধ্যে রিজেন্ট ডিসকভারির নামও নেই।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল বিল দিয়েছে হোটেল মিলিনাকে, কিন্তু তা চলে গেছে রিজেন্ট ডিসকভারির হিসাবে। বিলের সঙ্গে হোটেলে অবস্থানকারীদের স্বাক্ষরসহ নামের তালিকাও নেই। কাল্পনিক বিলের বিপরীতে টাকা দেওয়া হয়েছে মো. সাহেদকে। আর মো. সাহেদ অনেকটা প্রশাসনিক ভয়ভীতি দেখিয়ে হোটেল ও খাবার বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করেছেন। এমনকি ট্রেজারি থেকে চেক তুলে নিয়ে তিনি চেকের ফটোকপিও জমা দেননি।

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহ আগপর্যন্ত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রীর পরিচালক ছিলেন সারওয়ার উল আলম। গত সোমবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শিহাব উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘মো. সাহেদের সঙ্গে চুক্তি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অন্য আপত্তিগুলো ঠিকই আছে। মাঝখানে কিছু সংশোধনও করা হয়েছে।’

পণ্য না পেলেও বিল পরিশোধ

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ডিভাইস, ট্যাবলেট ও ইনজেকশন সরবরাহ না পেয়েও বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার। ২০২০ সালের ৩০ মে ৫ হাজার ২৭৭টি ডেঙ্গু পরীক্ষার ডিভাইস সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছিল মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডকে। কোম্পানিটি সরবরাহ করেছে ১০০টি ডিভাইস, অথচ বিল পেয়েছে ৫ হাজার ২৭৭টিরই।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রেজা এ বিষয়ে বলেন, ‘বিল দেওয়ার কারণ হচ্ছে অর্থবছরের বরাদ্দ যাতে ফেরত না যায়। আর ডেঙ্গু ডিভাইসের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ থাকে বড়জোর ছয় মাস। ওই সময় এগুলোর সরবরাহ নিলে বরং নষ্ট হয়ে যেত। বরং পরে যখন দরকার পড়েছে, তখন নিয়েছি। বিল দেওয়ার সময় নিরাপত্তা হিসেবে মেডিটেক থেকে অগ্রিম চেকও নেওয়া হয়েছিল।’

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালকের এই দাবির বিষয়ে সিএজি কার্যালয়ের নিরীক্ষা দলের একজন দায়িত্বশীল সদস্যের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, পণ্য পাওয়ার আগে বিল পরিশোধ করার কোনো বিধান নেই। অনিয়ম করার অংশ হিসেবে এই চর্চাটি করা হয়।

এদিকে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুটি কার্যাদেশে ক্লিয়ার এজ টেকনোলজি নামের প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ টাকার ট্যাবলেট ও ইনজেকশন কেনার কাজ দিয়েছিল। এগুলো না পেয়েই বিল দিয়েছে হাসপাতালটি।

থাকা-খাওয়ার দ্বিগুণ বিল

এ কাহিনি কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল ও হোটেল ব্লু বার্ডের। গত বছরের ১৩ এপ্রিল প্রথম দফায় চুক্তি হয় যে থাকা-খাওয়া বাবদ ৩০ জনের জন্য জনপ্রতি সাড়ে চার হাজার টাকা করে হোটেল ব্লু বার্ডকে দেওয়া হবে। পরে সংশোধন করে চুক্তি করা হয় জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে। কিন্তু ৩০ জনের পরিবর্তে ৬০ জনের নামে সাড়ে চার হাজার টাকা করে বিল দেওয়া হয়। এতে সরকারের ৮০ লাখ টাকা বাড়তি ব্যয় হয়েছে। দুই চুক্তিপত্রে ব্লু বার্ডের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের গরমিলও রয়েছে।

এদিকে ঢাকার হোটেল নিউইয়র্ক ও হোটেল ওসমানিতে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা থাকা-খাওয়ার বাড়তি বিল দিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ। এশিয়া হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসকে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল বাড়তি বিল দিয়েছে ১৬ লাখ টাকা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. টিটো মিয়া গত সোমবার বলেন, কেনাকাটার কোনো বিষয় তিনি দেখেন না।

নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে কেনা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও সরকারি ক্রয়বিধিতে (পিপিআর) বলা আছে, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে বেশি দামে পণ্য কেনা যাবে না। নিরীক্ষা প্রতিবেদন বলছে, আটটি হাসপাতাল তা লঙ্ঘন করেছে। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল জবাবে বলেছে, ‘লকডাউন’ থাকায় সরবরাহকারীরা ভয়ে তখন হাসপাতালে পণ্যই সরবরাহ করতেন না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে পণ্য কেনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এ নিয়ে নিরীক্ষা দলকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল জানিয়েছে, বাজারদরের চেয়ে কমে পণ্য কিনেছে তারা। মুগদা জেনারেল হাসপাতাল পরে জবাব দেওয়ার কথা বলে এড়িয়ে গেছে।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক খলিলুর রহমান গত সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এমআরপির মধ্যে থেকেই ওষুধ কেনা হয়েছে, যদিও ঘটনাটি তিনি যোগ দেওয়ার আগের।

এদিকে বেশি দামে পণ্য কিনে সরকারের ১ কোটি ৫১ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।

কেনা হয়েছে নিম্নমানের পণ্য

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি জোড়া সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস ৫ টাকা ৯৯ পয়সা দরে কেনার চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এস এম ট্রেডিং। অথচ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাসিতু মেডিকেল টেকনোলজি থেকে ১৮ টাকা ৬০ পয়সা এবং জেএমআই মার্কেটিংয়ের কাছ থেকে ১৮ টাকা দরে গ্লাভস কিনেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এতে সরকারের ৪৩ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালকে ৫০০ গ্রামের সার্জিক্যাল গজের থান দেওয়ার কাজ পেয়েছিল ঠিকাদার হামিদা এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু ঠিকাদার দিয়েছে নিম্নমানের ৩৪০ গ্রামের গজ থান। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৮ লাখ টাকা।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঠিকাদারের দেওয়ার কথা ছিল ৬ ১০ মিলিমিটারের হাজার ৫৮২টি অ্যাডেসিভ টেপ। কিন্তু দিয়েছে ৯ মিলিমিটারের টেপ।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সিএজি আহমেদ আতাউল হাকিম বলেন, ‘শুধু কোভিড নয়, দুর্নীতিও মহামারি রূপ নিয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচনার দায়িত্ব এখন সংসদীয় কমিটির। আর চূড়ান্ত বিচারে প্রতিকারের ব্যবস্থা করবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিব। আমরা এখন প্রতিকারের অপেক্ষায় থাকতে পারি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here