অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ালেন স্টোকস

0
61

করোনাকালে দীর্ঘ সময় জৈব-সুরক্ষা বলয়ে থেকে ক্লান্ত হয়ে উঠেছেন ক্রিকেটারেরা। এই বদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইংল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটার বেন স্টোকস। আপাতত মানসিকভাবে নিজেকে সুস্থ রাখার দিকে নজর দিচ্ছেন তিনি। মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইংলিশ তারকা।

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগ মুহূর্তে ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ালেন স্টোকস। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এমনটাই জানায় ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড ইসিবি।

গত এক বছর করোনার কারণে ক্রিকেট মাঠে গড়ায়নি। এরপর ইংল্যান্ডই সবার আগে ক্রিকেট মাঠে ফেরায়। আর করোনাকালীন ক্রিকেট হচ্ছে জৈব-সুরক্ষা বলয়ে। সুরক্ষা-বলয়ে ক্রিকেট শুরুর কারণে ক্রিকেটারদের বেশির ভাগ সময় কাটে পরিবার ছাড়া। সবমিলিয়ে মানসিকভাবে চাঙ্গা হতেই এই সিদ্ধান্ত নিলেন স্টোকস।

এক বিবৃতিতে ইসিবি বলে, ‘ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এটা নিশ্চিত করছে যে, ইংল্যান্ড পুরুষ দলের অলরাউন্ডার বেন স্টোকস সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অনির্দিষ্টকালীন বিরতি নিয়েছেন।’

স্টোকসের এমন সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে ইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাশলি জাইলস বলেন, ‘বেন যত সময় দরকার নেবে, আমরা ভবিষ্যতে তাকে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকব।’

করোনাকালে ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে জাইলস আরও বলেন, ‘অনেক বড় একটা সময় পরিবার থেকে দূরে থাকা, ন্যূনতম স্বাধীনতার মধ্যে থাকা খুবই কঠিন। গত ১৬ মাস ধারাবাহিকভাবে এমন আবহের মধ্যে খেলার প্রভাব সবার মধ্যেই পড়েছে। নিজের অনুভূতি ও ভালো থাকার ব্যাপারে মুখ খুলে বেন অনেক সাহসের পরিচয় দিয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল, সবাইকে মানসিকভাবে ভালো রাখা, তাদের সুরক্ষা দেওয়া। স্বাভাবিক সময়েই খেলার জন্য প্রস্তুত হওয়া এবং শীর্ষ মানের খেলা উপহার দেওয়া অনেক চাপ সৃষ্টি করে। বর্তমান মহামারির সময়ে সেটা আরও বহুগুণে বেড়েছে।’

ঘরের মাঠে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে দেশকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন স্টোকস। অ্যাশেজের নায়কও ছিলেন তিনি। কিন্তু, করোনাকালে তাঁকে পার করতে হয়েছে কঠিন সময়। গত ডিসেম্বরে ব্রেইন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাবা মারা যান। এ ছাড়া মাঝে আইপিএল খেলতে গিয়ে আঙুল ফেটে যায়। পরে মাঠে ফিরে দেশকে আরেকটি সিরিজ জেতালেও এবার বিরতি নিলেন স্টোকস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here