আফগানিস্তানে তিন বড় শহর ঘেরাও তালেবানের

0
74

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি বড় শহরের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে তালেবান যোদ্ধারা। এতে শহরগুলোকে ঘিরে তালেবানের সঙ্গে দেশটির সরকারি বাহিনীগুলোর লড়াই তীব্রতর হয়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তালেবান যোদ্ধারা হেরাত, লশকর গা ও কান্দাহারের বিভিন্ন অংশে প্রবেশ করেছে।

সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আফগানিস্তান থেকে প্রায় সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করা হবে—এমন ঘোষণা আসার পর থেকেই তালেবান দেশটির গ্রামীণ এলাকাগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিতে শুরু করে।

সরকারি বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শহর কতক্ষণ ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে উদ্‌বেগের মধ্যেই শহরগুলো তাদের হাতছাড়া হলে সেখানে মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

তালেবান যোদ্ধারা এরই মধ্যে ইরান ও পাকিস্তানের সঙ্গে থাকা লাভজনক সীমান্ত ক্রসিংসহ দেশটির অর্ধেক এলাকা দখল করে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কান্দাহারের এমপি গুল আহমদ কামিন বিবিসিকে জানিয়েছেন, শহরটি পতনের গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে আছে। প্রায় লাখো মানুষ এরই মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেখানে মানবিক সংকট আসন্ন বলে মনে করা হচ্ছে। 

গুল আহমদ কামিন জানান, প্রতি ঘণ্টায় শহরটির পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে এবং শহরের ভেতরে চলা লড়াই ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র হয়ে উঠেছে। এখন তালেবান কান্দাহারকে একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে। তারা শহরটিকে তাদের অস্থায়ী রাজধানী বানাতে চায় বলে জানান কান্দাহারের ওই এমপি। শহরটির পতন হলে এ অঞ্চলের পাঁচ থেকে ছয়টি প্রদেশ সরকারের হাতছাড়া হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কামিন। 

গুল আহমদ কামিন জানান, তালেবান যোদ্ধারা শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। এবং তারা শহরে পুরোপুরি ঢুকে পড়লেও প্রচুর বেসামরিক লোকজন থাকায় সরকারি বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে না। 

পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর হেরাতের দক্ষিণাংশে তালেবান যোদ্ধারা প্রবেশ করায় দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে বলে টোলো নিউজের প্রতিবেদক জানিয়েছেন। শহরটির পাঁচটি পৃথক এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিমান হামলার সমর্থন নিয়ে সরকারি বাহিনী শহরটির বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকাটি আবারও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হেলমান্দের রাজধানী লশকর গায়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে তালেবানের অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা সরকারি বাহিনী রুখে দেওয়ার পর তারা এখনও শহরটির কেন্দ্রস্থল থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তালেবানের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আফগান বাহিনীর কমান্ডার দাবি করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, শুক্রবার তালেবান প্রাদেশিক গভর্নরের দপ্তরের কাছে চলে এসেছিল, কিন্তু তাদের প্রতিহত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here