আফগানিস্তান ছাড়তে তোড়জোড় বিদেশি কূটনীতিকদের

0
31

তালেবান বাহিনী একের পর এক শহর দখল করায় অনেক দেশ আফগানিস্তানে কর্মরত নাগরিকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কূটনৈতিক কর্মীসহ অন্যান্যদের আফগানিস্তান ছেড়ে যেতে সহায়তা করতে মার্কিন সেনার প্রথম দলটি চলতি সপ্তাহে সে দেশে পৌঁছাবে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

তালেবান সেনারা গতকাল শুক্রবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) দূরের লোঘার প্রদেশের রাজধানী পুল-ই-আলম দখল করে।

জাতিসংঘের প্রধান বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতিসহ আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এ পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কূটনৈতিক সদস্য এবং আফগান মিত্রদের রক্ষা করতে শেষ মুহূর্তের প্রয়াস হিসেবে কাবুলে কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপ এমন সময় নেওয়া হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রশিক্ষিত ও সজ্জিত আফগান নিরাপত্তা বাহিনী এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানীগুলোর প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৩৪টি তালেবানের আগ্রাসনের মুখে পরাস্ত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন মেরিন ও সামরিক ব্যাটালিয়ন থেকে তিন হাজার সৈন্যের প্রথম সেনা দলটি চলতি সপ্তাহে কাবুলে পৌঁছার আসার কথা রয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার সমন্বয়ের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাতার থেকে আরও অতিরিক্ত এক হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা আফগানদের অভিবাসন ভিসা দরখাস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এই সেনারা সহযোগিতা করবেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৮২ এয়ার বোর্ন ডিভিশনের সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার সেনাকে কুয়েতে অবস্থিত ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে। এসব সেনা আফগানিস্তানের পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সেখানে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ নাগরিকসহ সাবেক আফগান সরকারি কর্মকতাদের আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিতে সাহায্য করার জন্য ৬০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ন্যূনতম সংখ্যক কর্মী দিয়ে ব্রিটিশ দূতাবাসের কার্যক্রম চলবে বলে দেশটি জানিয়েছে। একই পদক্ষেপ নিয়েছে জার্মানিও। আর, ডেনমার্ক ও নরওয়ে তাদের দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here